নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইএমই (ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) কোরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন–২০২৫ নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে ইএমই সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের মিলনায়তনে আয়োজিত এ গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তাঁর আগমনকে ঘিরে সম্মেলনস্থলে ছিল আনুষ্ঠানিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ। প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানান আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি, কোর অব ইএমই–এর কর্নেল কমান্ড্যান্ট, ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং রংপুর এরিয়া কমান্ডারসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সম্মেলনে অধিনায়কদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় সেনাবাহিনী প্রধান ইএমই কোরের কার্যক্রম ও দায়িত্বের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীর যানবাহন, আধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম ও বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি সচল রাখার ক্ষেত্রে ইএমই কোরের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ ব্যবস্থায় ইএমই কোরের সক্ষমতা বৃদ্ধি শুধু প্রশাসনিক বা কারিগরি প্রয়োজন নয়, বরং সেনাবাহিনীর সামগ্রিক দক্ষতা ও প্রস্তুতির জন্য অপরিহার্য।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে। তিনি নিত্যনতুন প্রযুক্তি অর্জনের ক্ষেত্রে ইএমই কোরের সদস্যদের আরও উদ্ভাবনী ও গতিশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গেও ইএমই কোরের অব্যাহত প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
বক্তৃতায় সেনাবাহিনী প্রধান মহান মুক্তিযুদ্ধে ইএমই কোরের বীর সেনানীদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অসাধারণ পারদর্শিতা আজকের ইএমই কোরের জন্য গৌরবময় ইতিহাস। সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে সেনাসদর, বিভিন্ন ডিভিশন এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। মতবিনিময় পর্বে তারা কোরের চলমান কার্যক্রম, সীমাবদ্ধতা এবং উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সম্মেলন শেষে সেনাবাহিনী প্রধান ইএমই সেন্টার অ্যান্ড স্কুল চত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। পরে তিনি সৈয়দপুর সেনানিবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন, যা দিনের কার্যক্রমে একটি অনুপ্রেরণামূলক সমাপ্তি এনে দেয়।
Leave a Reply