তিস্তা নিউজ ডেস্ক
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকার সেক্টরাল প্রোগ্রামের ফান্ড হঠাৎ বন্ধের ঘটনায় সংসদীয় তদন্ত দাবি করেছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী তাসনিম জারা। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে দেওয়া এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।
পোস্টে তিনি শুধু টিকা কর্মসূচির অর্থায়ন বন্ধ নিয়েই নয়, সংসদ সদস্যদের ভূমিকা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতি—বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র প্রশ্ন তোলেন।
তাসনিম জারা লেখেন, সংসদ সদস্যদের কাজ জনগণের স্বার্থে কথা বলা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “মানুষ সংসদে পাঠায় জনগণের স্বার্থের কথা বলতে, স্তুতিগাথা গাইতে নয়।”
তিনি হামের প্রাদুর্ভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ১৮ হাজারের বেশি সন্দেহজনক হামের কেস এবং ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ড্যাশবোর্ড না থাকায় কার্যকরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেক্টরাল প্রোগ্রামের ফান্ড হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় এবং সিরিঞ্জ সংকটের কারণে এমআর (Measles-Rubella) ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তগুলোর দায় নির্ধারণে সংসদীয় তদন্ত হওয়া উচিত বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে হাম-রুবেলা নির্মূলের লক্ষ্য থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য থেকে দেশ অনেক পিছিয়ে পড়েছে। পুনরুদ্ধারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে তিনি জ্বালানি সংকট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ এবং কৃষকদের জন্য আলাদা সুবিধা না থাকার বিষয়গুলো সংসদে আলোচনার দাবি জানান। পাশাপাশি বোরো মৌসুমে কৃষকদের জন্য আলাদা প্রাধান্য লেনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
এনার্জি সিকিউরিটি, ভর্তুকি নীতি এবং স্পট মার্কেট নির্ভরতা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও সরকারের কাছে স্পষ্ট রূপরেখা চেয়েছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র খাত নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “মব কালচারের সমাপ্তি ঘোষণা সত্ত্বেও কেন মব হামলা থামছে না”—এ প্রশ্ন তুলে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ জানতে চান তিনি।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং পলিসি রেট নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
সবশেষে তিনি বলেন, সংসদের মূল দায়িত্ব সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তাই সংসদ সদস্যদের সক্রিয়ভাবে প্রশ্ন তোলা এবং জনগণের স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
Leave a Reply