নিজেস্ব প্রতিবেদন
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৬টা—বাংলা ১৪৩৩ সালের প্রথম প্রহরেই নতুন বছরের উচ্ছ্বাসে জেগে ওঠে পুরো দেশ। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ভোরের আলো ফুটতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় বর্ণিল আয়োজন, যা এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয় বাঙালির প্রাণের উৎসবে।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার রমনা বটমূল, চারুকলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকাগুলো ভরে ওঠে মানুষের ঢলে। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরের উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত দৃশ্য। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া বর্ষবরণ অনুষ্ঠানগুলোতে গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির রঙ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
দিনের অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা সকাল ৯টার দিকে শুরু হয়ে নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়। নানা প্রতীকী মুখোশ, রঙিন শিল্পকর্ম ও সৃজনশীল উপস্থাপনায় এই শোভাযাত্রা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে তুলে ধরে নতুন করে।
গ্রামাঞ্চলেও ছিল উৎসবের ভিন্ন রূপ। সকাল থেকেই বসে বৈশাখী মেলা, নাগরদোলা, পুতুলনাচ ও লোকজ সংগীতের আসর। পান্তা-ইলিশ, পিঠা-পুলি ও নানা দেশীয় খাবারে জমে ওঠে পারিবারিক আয়োজন। ব্যবসায়ীরা হালখাতার মাধ্যমে নতুন হিসাবের খাতা খুলে ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করান, যা পুরোনো ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকেই মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ছিল বাড়তি নজরদারি, যাতে মানুষ নির্ভয়ে উৎসব উপভোগ করতে পারে।
পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ শুধু একটি দিন নয়, এটি নতুন করে স্বপ্ন দেখার, পুরোনোকে বিদায় জানানোর এবং সামনের দিনগুলোকে আশাবাদীভাবে বরণ করার এক অনন্য উপলক্ষ। নতুন বছরের প্রথম দিনে তাই সবার প্রত্যাশা—জীবনে আসুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও অনাবিল আনন্দ।
Leave a Reply