নিজেস্ব প্রতিনিধি
নীলফামারীতে গত রাত ২টার পর হঠাৎ আঘাত হানা এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে জলঢাকা ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে জলঢাকার খুটামারা ইউনিয়নের টেংগনমারী বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং সদর উপজেলার কচুকাটায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকশ ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় রাত থেকেই পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন আকস্মিক ঝড়ের কারণে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
ঝড়ের কারণে শুধু ঘরবাড়ি নয়, বরং আম ও লিচুর বাগানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, ঝড়ে তাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে গেছে, কিছু বাড়ির দেয়াল ও দরজা উড়ে গেছে এবং অনেক ব্যক্তিগত সম্পদও নষ্ট হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন ত্রাণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এমন ঝড়পুনরাবৃত্তি হতে পারে এবং স্থানীয়রা আগাম সতর্ক থাকতে হবে। ইতিমধ্যে এলাকাবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলঢাকা ও সদর উপজেলার বহু মানুষ এখনও বিপদগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন, এবং স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত চিহ্নিত করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
Leave a Reply