নিজস্ব প্রতিনিধি,
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক হওয়া বিএনপি নেতা মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আইএসপিআর মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বলা হয়েছে, গত ১২ জানুয়ারি রাত ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি থেকে ডাবলু আটক হন। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ৯ মিমি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
অভিযান শেষে ডাবলু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন এবং দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রাত ১২টা ২৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইএসপিআর এই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করে জানিয়েছে, তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে অভিযান চলাকালীন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাবলুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ডাবলু ওই সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় অভিযানে আটকা পড়েন এবং পরে নিজস্ব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার পর মারা যান। ঘটনার পরপরই স্বজন ও বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এই ঘটনায় সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার ও তদন্ত কমিটি গঠন ঘটনাটিকে যথাযথভাবে খতিয়ে দেখার চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
Leave a Reply