নিজস্ব প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে তিন মাস ২৭ দিন পর আবারো দানবাক্স খুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পর মসজিদে ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়, যার মধ্যে ১০টি ছিল সাধারণ দানবাক্স এবং তিনটি ক্রাং। দানবাক্সগুলো থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৫ বস্তা টাকা, যার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও রয়েছে।
দানবাক্সের টাকা মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয় এবং সেখানে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় গণনার কাজ। গণনায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫০০ জন, যার মধ্যে ৩৫০ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, শিক্ষক, সেনা সদস্য, পুলিশ, আনসার এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গণনা চলছে সারাদিন ধরে, যাতে জানা যাবে এবার দানের মোট পরিমাণ কত।
এর আগে ৩০ আগস্ট দানবাক্স খুলে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসেবে জমা রয়েছে প্রায় ১০৩ কোটি টাকা। পাগলা মসজিদে নিয়মিত পাওয়া যায় স্বর্ণালঙ্কার, রুপা এবং বৈদেশিক মুদ্রা, এছাড়া অসংখ্য চিঠি থাকে, যেখানে মানুষ তাদের ব্যক্তিগত কষ্ট, আশা ও প্রার্থনা লেখে।
এছাড়া, দেশ-বিদেশে থাকা দানকারীদের জন্য পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের অফিশিয়াল অনলাইন ডোনেশন ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে, যা দিয়ে সরাসরি ও নিরাপদভাবে দান করা যাবে। পাগলা মসজিদ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক।
Leave a Reply