নিজস্ব প্রতিনিধি,
কে জানত, একটি গুলি—যা মাথার খুলি ভেদ করে ছুটে আসবে—একটি মানুষের জীবনপথ আমূল বদলে দেবে, আর একই সঙ্গে নাড়িয়ে দেবে পুরো জাতির অনুভূতি। এক মুহূর্তেই জীবন ও মৃত্যুর সীমারেখায় পৌঁছে যান জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম অগ্রনায়ক, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার আশায় বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে। আর এদিকে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে অশ্রু, দোয়া আর একটাই আকুতি—হাদি যেন আবার ফিরে আসেন।
গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া এই মানুষটি এখন আর কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী নন। তিনি হয়ে উঠেছেন প্রতিরোধ, সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক। তার ভবিষ্যৎ কী—তা অনিশ্চিত। তবে অল্প সময়েই তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে নিন্দার ঝড়। সবাই এক কণ্ঠে দাবি জানাচ্ছে এই নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির।
এই আবেগঘন বাস্তবতার মধ্যেই ৫৪তম বিজয় দিবসে শরীফ ওসমান হাদিকে স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া হয়েছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্যারাট্রুপিং বিশ্ব রেকর্ড প্রচেষ্টায় তিনি অংশ নেবেন শরীফ ওসমান হাদির ছবি সংবলিত একটি হেলমেট পরে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে হাদিকে অভিহিত করা হয়েছে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে।
১৬ ডিসেম্বর সকাল থেকে ঢাকার আকাশে ইতিহাস গড়তে নামবে টিম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তি উদযাপনে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার বাংলাদেশের পতাকা হাতে প্যারাশুটিং করবেন। আকাশে উড়বে লাল-সবুজ, মাটিতে ধ্বনিত হবে বিজয়ের সুর। আর এই দৃশ্যের নীরব কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবেন হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে থাকা এক যোদ্ধা।
রক্তাক্ত শরীর নিয়ে যিনি আজ লড়ছেন বেঁচে থাকার সংগ্রামে—তিনি কি হয়ে উঠতে চলেছেন এবারের বিজয় দিবসের প্রতীকী মুখ? সে উত্তর দেবে সময়ই। তবে এই বিজয় দিবসে আকাশের দিকে তাকালে দেশের মানুষ শুধু পতাকা নয়, খুঁজবে ওসমান হাদির ফিরে আসার আশ্বাস।
Leave a Reply