নিজস্ব প্রতিনিধি,
ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের অভিভাবক শরীফ উসমান বিন হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। এরই প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন ঘটনাটিকে “বিচ্ছিন্ন” হিসেবে উল্লেখ করেন। তার এই মন্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের জন্ম দেয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সিইসির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিইসি যে বক্তব্য প্রদান করেন, তার একটি অংশ প্রসঙ্গ বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরে প্রচার করা হয়েছে, যা কমিশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, শরীফ উসমান বিন হাদীর ওপর সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলাকে সিইসি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় একই দিন নির্বাচন কমিশন আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক আয়োজন করে। বৈঠকে সিইসি দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, গুলিবর্ষণের এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সহিংস ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কমিশন উল্লেখ করে, সিইসির বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই বার্তা দেওয়া যে, এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
নির্বাচন কমিশন আহত শরীফ উসমান বিন হাদীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। কমিশনের আশা, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে সিইসির বক্তব্যকে ঘিরে সৃষ্ট বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে।
Leave a Reply