নিজস্ব প্রতিনিধি,
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএম নাসিরউদ্দিন। বুধবার বিজেপি সদর দপ্তরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত প্রশিক্ষণ মহড়া পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।
এদিন আজিমপুর ফুলপরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ মহড়ায় ভোটগ্রহণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিবেশগত সিমুলেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। ভোটারদের দীর্ঘ সারি, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা, ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান—সব মিলিয়ে একটি বাস্তবসম্মত ভোটগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল মহড়ায়। ঠিক এমন সময় আচমকা একদল দুর্বৃত্ত কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে, তৎক্ষণাৎ এগিয়ে আসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিপি) সদস্যরা। তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মহড়ার অংশ হিসেবে প্রদর্শিত এ দৃশ্য নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএম নাসিরউদ্দিনসহ নির্বাচন কমিশনের আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। মহড়া পরিদর্শন শেষে সিইসি জানান, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় পুরো দেশকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হবে—রেড, ইয়েলো এবং গ্রিন জোন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ‘ইয়েলো জোন’-এ মাঝারি নিরাপত্তা এবং তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিমুক্ত এলাকাগুলোকে ‘গ্রিন জোন’ হিসেবে বিবেচনা করে নিয়মিত নিরাপত্তা তদারকি চলবে। এভাবে জোনভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি হয়েছে। যদিও এটি একেবারে নিখুঁত নয়, তবে ধারাবাহিক উন্নতির মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন সময়ে পরিস্থিতি আরও ভালো অবস্থায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া, যা বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করা হয়েছে। কারণ নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “জাতিকে একটি নিরপেক্ষ ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিয়ে কমিশন তার অঙ্গীকার পূরণ করবে।”
এমন মহড়া ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম দেশের নির্বাচন পরিচালনা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
Leave a Reply