তিস্তা টিভি ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “আমাদের ‘জুলাই ব্যবসায়ী’ বলা হয়। হ্যাঁ, আমরা হাজারবার জুলাই ব্যবসায়ী হব। কিন্তু কখনোই টেন্ডারবাজ ব্যবসায়ী হব না।” তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করাই তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের মূল ভিত্তি এবং এ নিয়ে কোনো ধরনের সমালোচনাকে তারা ভয় পান না।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া মহানগরীর সাতমাথা জিরো পয়েন্টে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে জেলা এনসিপি আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, লাঞ্ছনা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে, বুট দিয়ে লাথি মারা হয়েছে, কলার চেপে ধরা হয়েছে। অথচ এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশের ভবিষ্যৎ। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে গিয়ে স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করবে। কোনোভাবেই তাদের কণ্ঠরোধ করে রাখা যাবে না।”
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ও আন্দোলনকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে চলমান পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা ভয় পাবে না। সাহস রাখো এবং নিজেদের লক্ষ্যে অটুট থাকো।”
বক্তব্যে দেশের অতীত রাজনৈতিক বাস্তবতার সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক মানুষ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “বগুড়ার অনেক মেধাবী তরুণ শুধু জেলার পরিচয়ের কারণে চাকরি পাননি। একইভাবে ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষও নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে হলে এসব সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
বিএনপির সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “গতকাল আমাদের ‘অবাঞ্ছিত’ বলা হয়েছে। অথচ যাদের আজ অবাঞ্ছিত বলা হচ্ছে, তারাই পরিবর্তনের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সময়ের পরিবর্তনে আজ তারাই আবার আমাদের অবাঞ্ছিত বলছে—এটাই সবচেয়ে বড় পরিহাস।”
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ সময় জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইজাজ আল ওয়াসী জ্বীম, যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিক মাহাদী, জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এমএসএ মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে নেতারা জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়ন, বৈষম্যবিরোধী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থী ও তরুণদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply