তিস্তা টিভি ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রধান সড়কগুলোর অনেক স্থান থেকে পানি সরে গেলেও বিভিন্ন এলাকার অলিগলি, আবাসিক সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে এখনও পানি জমে রয়েছে। ফলে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। কখন পুরোপুরি পানি নামবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
জলাবদ্ধতা নিরসনে সকাল থেকেই মাঠে নেমেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। ড্রেন, নালা ও ম্যানহোলের মুখ পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। কোথাও কোথাও ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ করা হচ্ছে, আবার প্রয়োজনীয় স্থানে পাম্পের সাহায্যে পানি নিষ্কাশনের কাজও চলছে।
রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর বেগম রোকেয়া সরণির কাজীপাড়া এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলাকালে ড্রেন থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উদ্ধার করা হয়। প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, গৃহস্থালির নানা আবর্জনার পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে ব্যবহৃত তোশক, জাজিম ও অন্যান্য বড় আকারের ফেলে দেওয়া সামগ্রী। এসব বর্জ্যের কারণে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
এ ঘটনায় ডিএনসিসি তাদের ফেসবুক পেজে উদ্ধার হওয়া বর্জ্যের ছবি প্রকাশ করে নগরবাসীর প্রতি ড্রেন, খাল ও নালায় বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের তোশক, জাজিম, আসবাবপত্র কিংবা যেকোনো ধরনের বর্জ্য ড্রেনে ফেললে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয় এবং এর খেসারত দিতে হয় পুরো নগরবাসীকে।
ডিএনসিসি জানায়, রাতভর ভারী বৃষ্টির কারণে কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনের উভয় পাশে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, প্রকৌশল বিভাগ ও জরুরি সেবা টিম সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টার অতিভারী বৃষ্টিপাতে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, গুলশান, বনানীসহ উত্তর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় কিছু এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্রেন ও নালা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা, ওয়াটার পাম্প চালু রাখা এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি মোতায়েনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ এলাকায় জলাবদ্ধতার খবরাখবর রেখে জরুরি সমস্যা দ্রুত জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ডিএনসিসির মতে, রাজধানীতে জলাবদ্ধতার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি, নগরায়ণের ফলে পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া, খাল ও ড্রেন দখল বা সংকুচিত হয়ে পড়া, অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলা এবং পুরোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ অন্যতম।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানিয়েছে, অব্যাহত বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে কমলাপুরে দুটি এবং ধোলাইখালে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তার পানি নিষ্কাশনের মুখগুলো পরিষ্কার রাখতে ভোর থেকেই ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, টানা বর্ষণে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা মাঠে রয়েছেন। জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি নগরবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন, নাগরিক সেবায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সবসময় মানুষের পাশে থাকবে।
Leave a Reply