তিস্তা টিভি ডেস্ক, মোঃ এমদাদুল হক
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের মনসারের ঘাট—বুড়ি তিস্তা নদীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি পিলার আজ আর শুধু ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়, এগুলো এক দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ক্ষোভ আর অদম্য স্বপ্নের প্রতীক। স্বাধীনতার পর থেকে এই অঞ্চলের মানুষ বারবার শুনেছেন একটি সেতুর প্রতিশ্রুতি, কিন্তু প্রতিবারই সেই আশার আলো নিভে গেছে নির্বাচনের পরপরই। বছরের পর বছর ধরে একই প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি তাদের জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা বলে “আমরা ৫৪ বছর ধরে শুধু ব্রিজের কথা শুনে আসছি। ভোটের আগে সবাই আসে, বলে ব্রিজ হবে। কিন্তু ভোট শেষ হলে কেউ আর ফিরে তাকায় না।” এই অবহেলার ফল ভোগ করতে হয়েছে প্রতিদিন—নদী পার হতে গিয়ে চরম ভোগান্তি, বিশেষ করে রোগী বা জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে পড়তে হয় মারাত্মক বিপদে। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করে, যখন নদীর স্রোত হয়ে ওঠে ভয়ংকর।
অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটাতে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছেন ডাউয়াবাড়ীর সাধারণ মানুষ। কোনো সরকারি সহায়তা বা বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ছাড়াই, নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ ও শ্রম দিয়ে তারা নির্মাণ করছেন একটি সেতু। ইতোমধ্যে পিলার নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে—যা তাদের দৃঢ় মনোবল ও ঐক্যের একটি দৃশ্যমান নিদর্শন।
বর্তমানে সেতুটিকে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করতে পিলারের ওপর কাঠের তক্তা বসানোর কাজ চলছে, যাতে অন্তত এই বর্ষায় মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে পারাপার করতে পারে। স্থানীয়দের আশা, আগামী বছরে তারা এই সেতুর ঢালাই কাজও শুরু করতে পারবেন। এই পুরো উদ্যোগের প্রতিটি ধাপে জড়িয়ে আছে মানুষের আন্তরিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিজেদের ভাগ্য বদলের এক অদম্য ইচ্ছা।
ডাউয়াবাড়ীর এই সেতু তাই শুধু একটি অবকাঠামো নয়—এটি এক অনন্য উদাহরণ, যেখানে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার বিপরীতে সাধারণ মানুষ নিজেরাই গড়ে তুলছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। প্রতিটি ইট, প্রতিটি কাঠের তক্তা যেন বলে দেয়—ঐক্য থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
Leave a Reply