তিস্তা নিউজ ডেস্ক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আজ আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এই বাহিনীকে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কোস্ট গার্ড দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র দূরদর্শী উদ্যোগে ‘গার্ডিয়ান অ্যাট সি’ মূলমন্ত্র নিয়ে এই বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোস্ট গার্ড মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার দমন, জলদস্যুতা নিয়ন্ত্রণ এবং সুন্দরবন-এর বনজ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
বিশেষ করে সুন্দরবন এলাকায় গত এক বছরে ২৯টি সফল অভিযানে ৩৫ জন ডাকাত গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও কাঠ উদ্ধার করায় বাহিনীর সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তিনি বলেন, এসব অর্জন প্রমাণ করে কোস্ট গার্ড এখন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ।
বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে বহরে ৩টি সার্ভেইলেন্স ড্রোন যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জাইকার অর্থায়নে একটি মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ডের মাধ্যমে বুলেটপ্রুফ হাই-স্পিড বোট সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হেলিকপ্টার ও আধুনিক মেরিটাইম সার্ভেইলেন্স সিস্টেম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাহিনীর জনবল ধাপে ধাপে ১০ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতে মন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান এবং সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন ও নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের বীরত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ১৪ জন সদস্যকে বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হয়। এর মধ্যে ৪ জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, ৪ জনকে কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, ৩ জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং ৩ জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক প্রদান করা হয়। মন্ত্রী তাদের হাতে পদক তুলে দেন এবং দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে মন্ত্রী সদর দপ্তর চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এবং ভিজিটর বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply