তিস্তা নিউজ ডেস্ক
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাস্তব ধাপে প্রবেশ করছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রুশ নকশার ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) প্রযুক্তিতে নির্মিত এই কেন্দ্রটি দুই ইউনিট বিশিষ্ট। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট, ফলে পুরো কেন্দ্র চালু হলে মোট প্রায় ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হবে। একটি রিঅ্যাক্টরে সাধারণত প্রায় ১৬০ থেকে ১৬৫টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি অ্যাসেম্বলিতে একাধিক ইউরেনিয়াম রড থাকে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় জ্বালানি দেশে আনা হয়েছে এবং নিরাপদ সংরক্ষণে রাখা হয়েছে।
জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে এবং এতে কয়েক সপ্তাহ থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। এরপর বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা পরীক্ষা, রিঅ্যাক্টর ক্যালিব্রেশন এবং সিস্টেম ভেরিফিকেশন।
সব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে রিঅ্যাক্টর ধীরে ধীরে “ক্রিটিক্যালিটি” অর্জন করবে এবং পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশাগত আয়ুষ্কাল প্রায় ৬০ বছর। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের মাধ্যমে এর কার্যক্ষমতা ৮০ থেকে ৯০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি ফুয়েল সাইকেল সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই সময় পর্যন্ত একবার লোড করা জ্বালানি থেকে টানা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়। এরপর নির্দিষ্ট সময় পর আংশিকভাবে ব্যবহৃত জ্বালানি প্রতিস্থাপন করা হয়, যা কেন্দ্রের ধারাবাহিক উৎপাদন নিশ্চিত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আসবে এবং তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানিনির্ভর চাপ কিছুটা কমবে। যদিও প্রাথমিকভাবে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি নির্ভরযোগ্য ও বড় পরিসরের বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply