নিজস্ব প্রতিনিধি,
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ বছরের পর বছর ধরে তাদের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে। তিনি বলেন, “আজ সেই সময় এসেছে, যখন দেশের মানুষের হারানো সব অধিকার ফেরত পাওয়ার সুযোগ আছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নয়, এটি দেশের পুনর্গঠনের নির্বাচন।”
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, “গত এক দশক ধরে বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি, কৃষকরা প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহায়তা পায়নি, নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেনি। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের কারণে এসব মৌলিক অধিকার প্রায় শূন্যে ছিল।” তিনি জানান, এগুলো ঠিক করার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ঘরের নারীরা সরাসরি অর্থনৈতিক সহায়তা পাবেন এবং আত্মনির্ভরশীল হতে পারবেন। কৃষকদের জন্য ‘ফরমার্স কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ঋণ, সার ও বীজ সহজভাবে পেতে পারবে। এছাড়াও, বিএনপি সরকার গঠিত হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে এবং ক্ষুদ্রঋণও সরকার কর্তৃক মওকুফ করা হবে।
উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলে কৃষি শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। চিনিকলগুলো আধুনিকীকরণসহ বন্ধ রেশন কারখানা পুনরায় চালু করা হবে। চা শিল্পকে উন্নত করা হবে এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বিমানবন্দর চালুর ব্যবস্থাও করা হবে।”
দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই ক্ষমতার প্রকৃত উৎস। জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমরা চাই দেশের মানুষ খাদ্যে স্বাবলম্বী হোক, মা-বোনরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোক। তাই ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিন। আমরা জনগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করব।”
জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের উচ্চ পর্যায়ের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সরব উপস্থিতিতে জনসভাকে প্রাণবন্ত করে তুলেন। তাদের উপস্থিতি ও স্লোগান অনুষ্ঠানের উত্সাহ আরও বাড়িয়ে তোলে।
এভাবে তারেক রহমান দেশের জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার, নারী ও কৃষক উন্নয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন, যা আসন্ন নির্বাচনে দলের রাজনৈতিক এজেন্ডাকে দৃঢ়ভাবে প্রভাবিত করবে।
Leave a Reply