তিস্তা নিউজ ডেস্ক;
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানো এবং একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া শেখ আবজালুল হককে ক্ষমার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এই মামলায় মোট ১৬ জন আসামি ছিলেন। তাদের মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, এসআই আবদুল মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক এবং কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ আটজন এখনও পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের মধ্যে রয়েছে ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা এবং যুবলীগ কর্মী রনি ভূইয়া।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত এবং মানবতাবিরোধী। আসামিরা নিরীহ মানুষ হত্যা করে তাদের লাশ পোড়ানোর কাজ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও বাংলাদেশের আইনের ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সাজানো যায় না। বিচারিক প্যানেল বলেন, এই ধরনের নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করা ছাড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
স্থানীয়রা এই রায়কে মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে আইনের শক্তি ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া মামলার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া ও রায় ঘোষণার পর শিকার পরিবারের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে।
আদালতের কঠোর রায় ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের ধরার জন্য প্রয়োজনীয় তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply