তিস্তা নিউজ ডেস্ক:
আজ বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, বিশুদ্ধ সোনার দামে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে দেশে নতুন করে সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ভরিপ্রতি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা দরে, যা বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনার মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প ছিল না বলে সংগঠনটি উল্লেখ করে।
বিশ্ববাজারে একই দিনে স্পট গোল্ডের দাম ২.৬ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৫৩৮.৬৯ ডলারে পৌঁছায় (০৩:৪৯ জিএমটি)। দিনের শুরুতেই সোনার দাম রেকর্ড ৫,৫৯১.৬১ ডলার ছুঁয়ে ফেলে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহৃত এক স্ট্যান্ডার্ড বা গৃহস্থালি আউন্সের ওজন ২৮.৩৫ গ্রাম।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন সোনার দাম বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেইর বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তে আঞ্চলিক ব্লকে বিভক্ত হওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি ঝোঁক বাড়ছে।”
দেশীয় বাজারে সোনার এমন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ ক্রেতা ও গয়না ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ক্রেতাই উচ্চ দামের কারণে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকছেন, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা এটিকে ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখছেন।









Leave a Reply