গত ২৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বাসা ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। পরিবারের সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। ঘুমন্ত অবস্থায় সুরভীকে বেডরুম থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে ব্ল্যাকমেইল, মামলা বাণিজ্য ও সংগঠিত প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখায়।
পুলিশ জানায়, গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছে জুলাই আন্দোলনের মামলার ভয় দেখিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে একটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার নেতৃত্বে ছিলেন সুরভী। কালিয়াকৈড় থানায় নাইমুর রহমান দুর্জয় নামের এক যুবকের দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলেও দাবি করা হয়।
তবে ঘটনার ১০ দিন পর সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাংবাদিক নাইমুর রহমান দুর্জয় সুরভীকে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসান। দুর্জয়ের কুপ্রস্তাবের একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মঈনুল ইসলাম দাবি করেন, দুর্জয় প্রভাবশালী পরিচয় দেখিয়ে সুরভীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন এবং প্রত্যাখ্যাত হলে তার বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়াল চালান।
এদিকে জানা গেছে, আগামীকাল সুরভীকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করবে পুলিশ। তার মুক্তির দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রনেতা ও জুলাই আন্দোলনের সমর্থকরা।
Leave a Reply