নিজস্ব প্রতিনিধি,
আল্লাহর দেওয়া জীবন অত্যন্ত মূল্যবান এবং সময় নদীর মতো চলমান, যা কখনো ফেরানো যায় না। তাই আমাদের সময়কে অবহেলায় নষ্ট করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা হলো, জীবন ও সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করা। কিন্তু আমরা থার্টি ফার্স্ট নাইটের মতো অশ্লীল ও শরিয়তবিরোধী উৎসবে সময় ও সম্পদ অপচয় করি, যার মধ্যে দুনিয়ার কল্যাণ বা পরকালের মুক্তি নেই।
থার্টি ফার্স্ট নাইটের ইতিহাস প্রাচীন পারস্য ও রোমান সভ্যতার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে নববর্ষের প্রথম দিনে আনন্দ করলে সারা বছর ভালো থাকবে—এ ধরনের কুসংস্কার আজও আধুনিক সমাজে রয়ে গেছে। ইসলামে কোনো দলিল নেই যা নববর্ষ উদ্যাপনকে বৈধ হিসেবে প্রমাণ করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি যে জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য রাখবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (সুনানে আবু দাউদ)। তাই শরিয়ত লঙ্ঘন ও মানবাধিকার ক্ষুণ্ণকারী এই উৎসব ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য।
সামাজিক ও নৈতিক ক্ষতিও ভয়াবহ। কোটি কোটি টাকা আতশবাজি, ডিজে পার্টি ও ফানুসে অপচয় হয়, অথচ শীতের রাতে লাখো মানুষ কষ্ট পায়। বিকট শব্দ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া অশ্লীলতা, মাদক ও ভোগবাদী মনোভাব তরুণদের নৈতিকভাবে দুর্বল করে। ইসলামের শিক্ষা বিপরীত এই উৎসবে শুধুই আত্মকেন্দ্রিক ভোগবাদ লক্ষ্য করা যায়।
নতুন বছর আসা মানে জীবন থেকে একটি বছরের পাতা ঝরে যাওয়া। বরফ যেমন গলে যায়, আমাদের সময়ও সীমিত। তাই থার্টি ফার্স্ট নাইটের রাতে উন্মাদনা নয়, তওবা ও নেক পরিকল্পনা করা উচিত। পরিবার ও সমাজকে এই ভ্রান্ত সংস্কৃতি থেকে রক্ষা করা আমাদের ইমানি ও নাগরিক দায়িত্ব।
Leave a Reply