নিজস্ব প্রতিনিধি,
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী দুই একদিনের মধ্যেই এ সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হবে, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার রাতেও জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আসন সমঝোতা নিয়ে রুদ্ধদ্বার দীর্ঘ বৈঠক করেন। এনসিপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, বিষয়টি এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায়। দলের নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্য এবং শীর্ষ নেতৃত্ব সভায় ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই সমঝোতা চূড়ান্ত করেছেন। যদিও শুরুতে দলের একাংশ, বিশেষ করে কয়েকজন নারী নেত্রী আপত্তি তুলেছিলেন, তবে দলের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তারাও শেষ পর্যন্ত সম্মতি দিয়েছেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন শিশির বলেন, “বিএনপি বাদে জুলাই শক্তির দলগুলো যদি একত্রিত হয়—বিশেষ করে এনসিপি ও জামায়াতসহ আট দল নিয়ে একটি জোট গড়ে ওঠে—তাহলে তা ইতিবাচক হবে। আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে সরকার গঠন করা সম্ভব হবে।”
এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানান, আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে দলটি অন্তত ৫০টি আসন প্রত্যাশা করছে। যদিও প্রাথমিকভাবে ৩০টি আসন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। কোন কোন আসনে কারা প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে ধারাবাহিক বৈঠক চলছে।
এনসিপির নির্বাহী কমিটির এক সদস্য বলেন, সংস্কার ও নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেই এই জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশ সংস্কারই এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই সমঝোতা দেশের রাজনীতিতে কোন দিকে মোড় নেবে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
Leave a Reply