নিজস্ব প্রতিনিধি,
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর রয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে নড়েচড়ে বসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাকর্মী, সমন্বয়ক, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২০ জন ব্যক্তিকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ সদস্য প্রার্থী গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং এবি পার্টির ব্যারিস্টার ফ্লাওয়াদসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা। তাদের নিরাপত্তা প্রদানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সূত্র জানায়, জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির কয়েকজন যোদ্ধা ও সমন্বয়ক এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় রাজনীতিকরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রাণনাশের হুমকিতে রয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের তথ্যও উঠে এসেছে।
সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গানম্যান প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহরুল আলম জানান, ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি এসবির অতিরিক্ত আইজিপির তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
Leave a Reply