ক্রীড়া ডেস্ক
পাকিস্তানের পর এবার নিউজিল্যান্ডকেও নাস্তানাবুদ করলেন নাহিদ রানা। গতি আর বাউন্সের দাপটে দুর্দান্ত এক স্পেল করে ৫ উইকেট তুলে নেন এই তরুণ পেসার, আর তাতেই সফরকারীরা গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৮ রানে। পুরো ইনিংস জুড়েই ছিল তার নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন, যা কিউই ব্যাটারদের জন্য হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ।
ইনিংসের শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। প্রথম ২৮ বল খেলে দুই ওপেনার হেনরি নিকলস ও নিক কেলি মিলে তুলতে পারেন মাত্র ৪ রান। নতুন বলে শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ দুর্দান্ত লাইন-লেন্থ বজায় রেখে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওভারে মেডেন নেন, যা শুরুতেই ম্যাচের গতি বাংলাদেশের দিকে নিয়ে আসে।
এই চাপের মধ্যেই আক্রমণে আসেন নাহিদ রানা এবং এসেই আঘাত হানেন। নিজের প্রথম বলেই হেনরি নিকলসকে এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়ে দেন। পরের ওভারে আবারও প্রথম বলেই উইল ইয়াংকে আউট করে নিউজিল্যান্ডকে আরও বিপদে ফেলেন তিনি। তার গতি ও বাউন্স সামলাতে হিমশিম খেতে থাকে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ। পরের স্পেলে ফিরে এসে তিনি মোহাম্মদ আব্বাসকেও ফেরান।
মাঝে অধিনায়ক টম ল্যাথামকে আউট করে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন সৌম্য সরকার। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান নিক কেলি। ১০২ বলে ৮৩ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন তিনি, যা তার সংক্ষিপ্ত ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক। কিন্তু দলীয় ১৪৫ রানে পঞ্চম উইকেট হিসেবে শরীফুল ইসলামের বলে মিডউইকেটে তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন কেলি।
এরপর দ্রুতই ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের নিচের সারি। রিশাদ হোসেন আক্রমণে এসেই ক্লার্কসনকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। নাহিদ রানা তার চতুর্থ উইকেট হিসেবে ফক্সক্রফটকে স্কয়ার লেগে মিরাজের হাতেই তুলে দেন। শরীফুলের ধীরগতির বলে টিকনার মিডউইকেটে ক্যাচ দেন, বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেন সেটি নিরাপদে তালুবন্দি করেন।
সবশেষে জেডেন লেনক্সকে বোল্ড করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন নাহিদ রানা। এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে তার দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট শিকার। এর আগে গত ১১ মার্চ মিরপুরেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছিলেন তিনি।
নাহিদ রানার এই আগুনঝরা বোলিংয়ের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করে, আর সিরিজে সমতায় ফেরার লড়াইয়ে পায় বড় আত্মবিশ্বাস।
Leave a Reply