তিস্তা নিউজ ডেস্ক:
সৌদি আরবের হিজরি বর্ষপঞ্জি উম্ম আল-কুরা অনুযায়ী আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার কথা। তবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ কারণে এবারও সৌদি কর্তৃপক্ষের পূর্বনির্ধারিত ক্যালেন্ডারের সঙ্গে চাঁদ দেখা ও বৈজ্ঞানিক হিসাবের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিতর্ক উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও খালি চোখে বা টেলিস্কোপে চাঁদ দেখা যাওয়ার বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা নেই। তারপরও সৌদি আরব তাদের ক্যালেন্ডারের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার থেকে রোজা শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে সৌদি সরকারের চাঁদ দেখার দাবি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক সময় চাঁদ দেখা না গেলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ রমজান ও ঈদের তারিখ ঘোষণা করে দেয়। ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময়ও এমন বিতর্ক দেখা গিয়েছিল। কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন তখন বলেন, ওই রাতে আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো প্রমাণ দেখাতে না পারলেও পরদিন ঈদ ঘোষণা করে, যা বিশ্বব্যাপী মুসলিম স্কলার ও বিজ্ঞানীদের সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা বিশেষজ্ঞ ও নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ মন্তব্য করেছেন, সৌদি আরব প্রায়ই এমন দিনে চাঁদ দেখা দাবি করে যা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। তার মতে, মাত্র দু-তিনজনের ব্যক্তিগত দাবির ওপর ভিত্তি করে ঘোষণা দেওয়া হয়, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি চাঁদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ।
বিশ্বের মুসলিমরা চন্দ্র বর্ষ অনুসরণ করে। রমজানের দৈর্ঘ্য নির্ভর করে চাঁদ দেখার ওপর। কিছু দেশ স্বতন্ত্রভাবে চাঁদ দেখার পর রমজান ও ঈদ শুরু করে, আবার কিছু দেশ সৌদি আরবের ঘোষণার ওপর নির্ভর করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস সত্য হলে, বুধবারের আগে চাঁদ দেখা সম্ভব নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।








Leave a Reply