তিস্তা নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিটি আসনে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি ও বিএনপি-সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।
বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. আবদুস সাত্তার ১ লাখ ৫০ হাজার ৮২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের খেজুরগাছ প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ ভোট। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৮৫ এবং ‘না’ ভোট ৯৫ হাজার ৭৮৫।
নীলফামারী-২ (সদর) আসনে জামায়াত প্রার্থী আল ফারুক আবদুল লতীফ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৮ ভোট। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭২ এবং ‘না’ ভোট ৯০ হাজার ৭৮৭।
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী ১ লাখ ৯ হাজার ৬৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৮০৭ ভোট। এখানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৩০ এবং ‘না’ ভোট ৬৬ হাজার ৬৩৮।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে জামায়াত প্রার্থী আবদুল মুনতাকিম ১ লাখ ২৬ হাজার ২২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮২ হাজার ৮৬ ভোট। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯৪ এবং ‘না’ ভোট ৫৯ হাজার ৭৭০।
জেলার চারটি আসনে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় বিজয় মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নীলফামারীর রাজনীতিতে এই ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচিত প্রার্থীরা জানিয়েছেন, তারা জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন এবং এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন।
Leave a Reply