তিস্তা নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে উত্তরাঞ্চলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় বিএনপির প্রভাব কমেছে এবং ১১ দলীয় জামায়াত জোটের আধিপত্য প্রকাশ পেয়েছে।
রংপুর জেলা
রংপুরের ছয়টি আসনে জামায়াত ও জোট-সহযোগী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বিএনপি প্রতিটি আসনে পরাজিত হয়েছে।
রংপুর-১ (সিটি করপোরেশন ও সদর): জামায়াতে ইসলামের রায়হান সিরাজী – ১,৭৪,২৪৫ ভোট; বিএনপি – ৬৯,১৩১ ভোট
রংপুর-২: জামায়াতে ইসলামের এটিএম আজাহারুল ইসলাম – ১,৩৫,৫৫৬ ভোট; বিএনপি – ৮০,৫৩৮ ভোট
রংপুর-৩: জামায়াতে ইসলামের মাহবুবার রহমান বেলাল – ১,৭৫,৮২৭ ভোট; বিএনপি – ৮৪,৫৭৮ ভোট
রংপুর-৪: এনসিপির আকতার হোসেন – ১,৪৯,৯৬৬ ভোট; বিএনপি – ১,৪০,৫৬৪ ভোট
রংপুর-৫: জামায়াতে ইসলামের গোলাম রব্বানী – ১,৭৬,৪১১ ভোট; বিএনপি – ১,১৫,১১৬ ভোট
রংপুর-৬: জামায়াতের নুরুল আমীন – ১,২০,১২৮ ভোট; বিএনপি – ১,১৭,৭০৩ ভোট
বিশ্লেষণ: বিএনপির জন্য এটি শুধু নির্বাচনি পরাজয় নয়, বরং অস্তিত্ব সংকটের বার্তা। যেখানে একসময় দলের নামেই ভোট পড়ত, এবার ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা
কুড়িগ্রামের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াত এবং একটিতে এনসিপি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী): জামায়াত – আনোয়ারুল ইসলাম – ১,৪১,০৯০ ভোট; বিএনপি – ১,২৩,২৫ ভোট
কুড়িগ্রাম-২ (সদর-ফুলবাড়ী-রাজারহাট): এনসিপি – ড. আতিক মুজাহিদ – ১,৮০,৫২৬ ভোট; বিএনপি – ১,৭১,৪০৫ ভোট
কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর): জামায়াত – ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী – ১,০৭,৯৩০ ভোট; বিএনপি – ৭৯,৩৫২ ভোট
কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী-রৌমারী-রাজিবপুর): জামায়াত – মো. মোস্তাফিজুর রহমান – ১,০৮,২১০ ভোট; বিএনপি – ৮৪,৪২৩ ভোট
বিশ্লেষণ: বিএনপি কোনো আসনে জয় পাননি। মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও জোটগত সীমাবদ্ধতা তাদের পতনের মূল কারণ।
নীলফামারী জেলা
নীলফামারীর চারটি আসনে জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা): জামায়াত – মাওলানা আব্দুস সাত্তার – ১,৪৯,২১৪ ভোট; বিএনপি – ১,১৮,১৬০ ভোট
নীলফামারী-২ (সদর): জামায়াত – আলফারুক আব্দুল লতিফ – ১,৪৫,২০২ ভোট
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা): জামায়াত – মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী – ১,০৮,৫৬০ ভোট
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ): জামায়াত – হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম – ১,২৪,৮৬৫ ভোট; বিএনপি – ৮১,৫২৬ ভোট
বিশ্লেষণ: চারটি আসনের সাফল্য উত্তরাঞ্চলে জামায়াতের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
গাইবান্ধা জেলা
গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে জামায়াত জয়ী হয়েছেন।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ): জামায়াত – মাজেদুর রহমান – ১,৪০,৭২৬ ভোট
গাইবান্ধা-২ (সদর): জামায়াত – আব্দুল করিম – ১,২২,৬৩০ ভোট; বিএনপি – ৯২,৮৯০ ভোট
গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর): জামায়াত – নজরুল ইসলাম – ১,৬২,৪৫৭ ভোট
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ): বিএনপি – শামীম কায়সার – ১,৪২,৭৭২ ভোট; জামায়াত – ১,৩৯,৭৩৮ ভোট
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি): জামায়াত – আব্দুল ওয়ারেছ – ৮৯,২৭৪ ভোট; বিএনপি – ৭৩,৪৮৩ ভোট
উপসংহার
উত্তরের এই নির্বাচনি ফলাফল বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। তৃণমূল নেতাকর্মীরা এখনও মানসিকভাবে প্রভাবিত, তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত দলকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। জামায়াত জোট স্থানীয় নেটওয়ার্ক, জোট সমীকরণ ও প্রচার কৌশল কাজে লাগিয়ে জয়লাভ করেছে।
Leave a Reply