জেলা প্রতিনিধি;
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র নয় দিন বাকি। এমন সময়ে ঢাকার বিভিন্ন বস্তি এলাকায় রাজনৈতিক দলের প্রচারণাকর্মীদের দ্বারা ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। বস্তিবাসীদের অভিযোগ, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীর পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা এসব তথ্য নিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) একাধিকবার সতর্ক করলেও এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ। গত এক সপ্তাহে ভাসানটেক, কাফরুল, মিরপুর, কড়াইল, মহাখালী সাততলা ও তেজগাঁও বস্তি ঘুরে এবং অন্তত ৫০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বাসিন্দারা জানান, রাজনৈতিক কর্মীরা এনআইডি নম্বরের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরও সংগ্রহ করছেন।
ভাসানটেক বেনারসি পল্লি এলাকার বাসিন্দা রুবিনা (৫৯) বলেন, ২১ জানুয়ারি দুজন ব্যক্তি এসে জামায়াতের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’য় ভোট চান এবং তাঁর এনআইডি কার্ড দেখতে চান। কার্ড দেখানোর পর তারা মোবাইলে ছবি তুলে নিয়ে যান। একই এলাকার রাহেলা বেগম (৫৩) জানান, মাসখানেক আগে জামায়াত ও বিএনপির পরিচয়ে আসা দুটি দলই তাঁর এনআইডি কার্ডের ছবি তুলে নেয়। আরেক বাসিন্দা মোসাম্মৎ রোকেয়া (৬৬) বলেন, একদল লোক বস্তিতে নারী-পুরুষদের জড়ো করে এনআইডি ও মোবাইল নম্বর চেয়েছিল।
২১ জানুয়ারি ভাসানটেকের একটি ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তথ্য সংগ্রহকারীদের তর্ক বাধে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে ১২ জনকে আটক করেন। ভাসানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা ভোটারদের এনআইডি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছে। তবে গুলশান সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিলয় রহমান বলেন, তারা নির্বাচনি জরিপের দাবি করেছে। ইসির অনুমতিপত্র দেখাতে না পারলেও জোরপূর্বক তথ্য নেওয়ার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
কাফরুল ও মিরপুর এলাকাতেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা-১৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন দাবি করেন, জামায়াত কর্মীরা কয়েক দফা জনরোষের মুখে পড়েছে। পরে কাফরুল থানা জামায়াতের আমির প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দেন, যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন ২২ জানুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভোটারদের এনআইডি তথ্য সংগ্রহ বা হস্তান্তর এবং অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবু মাঠপর্যায়ে এসব তৎপরতা চলায় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
Leave a Reply