নিজস্ব প্রতিনিধি,
তৃতীয় দফায় বাদ পড়া চারটি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন ঘোষণা করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মনোনয়ন ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী সিলেট-৫, নীলফামারী-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-২—এই চারটি আসনে বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়ত ওলেমা ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। জোট রাজনীতির বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনী মাঠ ছাড়ছেন না বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন।
সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় রুমিন ফারহানা বলেন, “দলের সিদ্ধান্ত দল নেবে, আর নিজের সিদ্ধান্ত আমি নিজেই নেব।” তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে তিনি নেতাকর্মীদের দ্বারাই অনুপ্রাণিত এবং তাদের মাঝপথে রেখে তিনি সরে দাঁড়াতে পারেন না। তার ভাষায়, “নেতাকর্মীরাই আমার প্রকৃত মনোনয়নদাতা।”
আসনটি শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির মতো বড় দলকে জোট রাজনীতির বাস্তবতা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। জমিয়ত ওলেমা ইসলামের সঙ্গে জোট বজায় রাখতে গেলে আসন ছাড়া ছাড়া বিকল্প ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে অতীতে বিএনপি ছয়বার নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিবারই বিজয়ী হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। যদিও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে আসনটি জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দখলে ছিল।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পারিবারিক রাজনীতির সঙ্গেও এই অঞ্চলের ইতিহাস জড়িত। ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার বাবা ওলি আহাদ এই এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বর্তমানে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ফলে বিজয়নগর উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত হলেও এলাকাটির সঙ্গে রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক যোগাযোগ ও জনপ্রিয়তা এখনও দৃঢ় রয়েছে।
২০১৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সরাইল ও আশুগঞ্জ এলাকায় সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন রুমিন ফারহানা। গত বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকে তিনি এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশায় ধারাবাহিকভাবে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বের নানা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন তিনি।
Leave a Reply