দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে বিএনপি। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির আবেদনের পর বাংলাদেশ রেলওয়ে নির্ধারিত ভাড়ার বিনিময়ে ১০টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীচাপ সামাল দিতে নিয়মিত চলাচলকারী কয়েকটি ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। এতে করে ঢাকামুখী যাত্রীদের যাতায়াতে কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসব বিশেষ ট্রেন পরিচালনার মাধ্যমে রেলওয়ের প্রায় ৩৬ লাখ টাকা আয় হবে। রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে বিএনপির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগমের লক্ষ্যে এই পরিবহন ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, শুরুতে ১১টি বিশেষ ট্রেনের আবেদন করা হলেও ইঞ্জিন সংকটের কারণে ১০টি ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রুটের ট্রেনে আরও ১৭টি অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হচ্ছে। কক্সবাজার, খুলনা, রাজশাহী, যশোর, পঞ্চগড়, জামালপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ভৈরব বাজার, নরসিংদী, চাটমোহর ও জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব ট্রেন ঢাকায় আসবে এবং কর্মসূচি শেষে যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবেন।
তবে এই বিশেষ ব্যবস্থার কারণে একদিনের জন্য কয়েকটি কমিউটার ও আঞ্চলিক ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এতে নিয়মিত যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তির আশঙ্কা থাকলেও কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই দুঃখ প্রকাশ করেছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাউজুল কবির খান জানান, ইঞ্জিন ও কোচের সংকট থাকা সত্ত্বেও বিএনপির কর্মসূচির গুরুত্ব বিবেচনায় বিশেষ এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে নির্ধারিত ভাড়ার বিনিময়ে বিশেষ ট্রেন পরিচালিত হয়েছে এবং এক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির চাহিদা ও সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেই বিশেষ ট্রেন পরিচালনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
Leave a Reply