নিজস্ব প্রতিবেদক,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকার–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীকে গুলি করে আহত করার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিলেও এখনো হামলায় জড়িত শুটারকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলেও বিভিন্ন সূত্রের দাবি, হামলাকারীরা ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে পারে। তবে তদন্তের অগ্রগতিতে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে এই পরিকল্পিত হামলার নেপথ্য রহস্য।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনায় হামলাটি চালানো হয় এবং আলামত গোপনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। তবুও সিসিটিভি ফুটেজের গভীর বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, হেলমেট ও ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এসব আলামত উদ্ধারকে তদন্তের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত ১৪ ডিসেম্বর সকালে শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম আগারগাঁও এলাকার বনলতা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির পার্কিং থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেল ও হেলমেট উদ্ধার করা হয়। তবে তদন্তকারীদের সবচেয়ে বিস্মিত করেছে একটি ম্যানহলের ভেতর লুকিয়ে রাখা নম্বর প্লেট, যা অপরাধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তালিবুর রহমান জানান, পুলিশের চোখ এড়াতে হামলাকারীরা নম্বর প্লেট পরিবর্তনের কৌশল নিয়েছিল। সিসিটিভি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিটিটিসির একটি বিশেষ দল বিষয়টি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি অন্তত আটবার মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। সর্বশেষ এটি হামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সালের সহযোগী মোহাম্মদ কবিরের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া নামে কেনা হয়।
সিটিটিসি জানিয়েছে, উদ্ধার করা আলামতগুলো অধিকতর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওসমান হাদীর ওপর চালানো এই হামলায় জড়িত মূল ঘাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply