নিজস্ব প্রতিনিধি,
ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি, উত্তর বাড্ডায় পুলিশের ব্যারিকেড
রাজধানীতে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাই কমিশন’ কর্মসূচি পালন করেছে জুলাই ঐক্য। রামপুরা ব্রিজ এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিল ভারতীয় দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হলে উত্তর বাডা এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে যায়।
মিছিল চলাকালে বিক্ষোভকারীরা ‘দিল্লি না ঢাকা’, ‘ভারতীয় আধিপত্য মানি না’—এমন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উত্তর বাড্ডার হোসেন মার্কেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের একাংশ সড়কে বসে অবস্থান নেন, অপর অংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জুলাই ঐক্যের নেতাকর্মীরা ব্যারিকেডের ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। তারা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার অভিযোগ, ভারতের সঙ্গে বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিল এবং সব ধরনের অবৈধ চুক্তি প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
নেতারা অভিযোগ করেন, আগস্টের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনো বৈষম্যমূলক চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেয়নি। তারা অবিলম্বে ভারতের সঙ্গে সব ধরনের ট্রানজিট বাতিলের হুঁশিয়ারি দেন এবং দক্ষিণ তালপট্টি (নিউ মুরিং দ্বীপ) ফেরত আনার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, ভারতে আশ্রিত ‘গণহত্যাকারীদের’ দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে সরকারকে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের ভারতীয় আধিপত্যবাদ চলতে দেওয়া হবে না।
এ সময় তারা ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে বন্দি বিনিময় চুক্তি কার্যকর না হলে তা বাতিলের দাবি জানান এবং প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতীয় দূতাবাস দুপুর ২টা থেকে যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
Leave a Reply