নিজস্ব প্রতিনিধি,
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালত তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে আব্দুল হান্নানকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রিমান্ড শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে আব্দুল হান্নান বলেন, তিনি মোটরসাইকেলটি মিরপুর মাজার রোড এলাকা থেকে কিনেছিলেন। পরে অসুস্থতার কারণে পরিবারের সদস্যরা তাকে মোটরসাইকেল চালাতে নিষেধ করলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করেন এবং বাইকটি বাসায় পড়ে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মোটরসাইকেলটি একটি শোরুমে বিক্রি করেন বলেও আদালতকে জানান। নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া পরে সম্পন্ন করার কথা ছিল এবং দুই মাসের মধ্যে তা করার পরিকল্পনাও ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শোরুম কর্তৃপক্ষ নাম পরিবর্তনের বিষয়ে যোগাযোগ করলেও অসুস্থতার কারণে তিনি সেখানে যেতে পারেননি। গ্রেপ্তারের সময় তিনি পুলিশকে সুষ্ঠু তদন্তের অনুরোধ জানান এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে প্রয়োজনে শোরুমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দেন। আব্দুল হান্নান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, হামলার ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক প্রশ্ন তোলেন—মোটরসাইকেলটি কীভাবে হামলাকারীদের হাতে পৌঁছাল এবং মালিক হিসেবে আব্দুল হান্নানের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ বা সম্পর্ক ছিল কি না। সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এ ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আসামির সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অপর আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ দোহা সুমন দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমন করতে একটি সক্রিয় চক্র পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে। এদিন আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আব্দুল হান্নানকে আদালতে হাজির করা হয়।
Leave a Reply