নিজস্ব প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য জোট রাজনীতির নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি’কে ঘিরে জোট গঠনের গুঞ্জন ছিল তুমুল। এনসিপির শীর্ষ নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীও সম্প্রতি প্রকাশ্যে বিএনপি–এনসিপি সমঝোতার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। রাজধানীসহ বিভিন্ন আসনে অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে দুই দলের মধ্যে কথাবার্তাও চলছিল।
এর মাঝেই দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৬টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করে তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। নতুন এ তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে—এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নেতার নির্বাচনী এলাকাতেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। ফলে আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে প্রশ্ন—তাহলে কি বিএনপি–এনসিপি সম্ভাব্য জোট প্রক্রিয়া থমকে গেল?
বিএনপি এখনো পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও এনসিপি নেতারা বলছেন—জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে তারা এখনই কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না। তাদের দাবি, প্রয়োজন হলে পরে আলোচনা হতে পারে, তবে দল এখন ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সপ্তাহেই তারা প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে বলেও নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে দ্বিতীয় দফার তালিকা প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তালিকায় ঢাকার বেশ কিছু আলোচিত আসন রয়েছে—যেখানে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
ঢাকা–৯ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। কিন্তু সেখানে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি—হাবিবুর রশিদকে। একইভাবে ঢাকা–১৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী; সেখানে বিএনপি প্রার্থী করেছে এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনকে।
আবার আলোচিত ঢাকা–১০ আসনেও এনসিপির তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ ছিল। কিন্তু BNপি প্রার্থী করেছে শেখ রবিউল আলমকে।
এর আগে ঘোষিত ২৩৭ আসনের তালিকাতেও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সম্ভাব্য এলাকা—ঢাকা ১১, রংপুর ৪, কুমিল্লা ৪, পঞ্চগড় ১, নোয়াখালী ৬—এসব আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করেছিল।
এনসিপির যুগ্ম সংগঠক সরওয়ার তুষার জানান—জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে ঠিকই, তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। কোন দল কোথায় প্রার্থী দিল তা নিয়ে আপাতত দল উদ্বিগ্ন নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী জোট হলে তখন সিদ্ধান্ত হবে।
Leave a Reply