নিজস্ব প্রতিনিধি,
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। মায়ের এমন সংকটময় অবস্থাতেও দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করতে পারেননি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক। সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে বিএনপির এক শীর্ষ নেতা লিখেছেন—তারেক রহমানের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত এককভাবে নির্ধারিত নয়, বরং বিভিন্ন বিষয় বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।
এ মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—কেন তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে। ঠিক এমন সময় দেশ ফেরার প্রসঙ্গে নতুন বক্তব্য দিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে যুবদল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা রয়েছে কি না—তা পর্যবেক্ষণ করেই ছেলের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে তিনি শীঘ্রই দেশে ফিরতে পারেন বলেও জানান মির্জা ফখরুল।
দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস ও চোখের জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি মুক্তি পান। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং ১১৭ দিন অবস্থানের পর ৬ মে দেশে ফেরেন। এরপর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে আবারও এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরীক্ষা–নিরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে তার অবস্থা সংকটজনক বলে জানানো হয়। ২৭ নভেম্বর থেকে তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রেখে দেশি–বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড নিবিড়ভাবে চিকিৎসা দিচ্ছে।
এদিকে, এভারকেয়ার হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালের ফটকের দুই পাশে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
Leave a Reply