নিজস্ব প্রতিনিধি,
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের প্রস্তুতিতে রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ শুরু করেছে। প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং শরিকদের জন্য ৬৩টি আসন খালি রেখেছে। বিএনপির ফাঁকা রাখা ঢাকা–১০ আসনে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে এবং অন্য একটি আসনে উপদেষ্টা মাহফুজে আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।
এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র উপদেষ্টাদের একটি অংশ চান নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এনসিপি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোট করুক। তবে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ অধিকাংশ স্থায়ী নেতা জোটে যেতে অন্তত ২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ, মাঠে বিএনপির সংগঠনিক সহায়তা এবং বিদ্রোহী প্রার্থী না রাখার নিশ্চয়তা দাবি করছেন। এসব নিশ্চয়তা না মিললে তারা বিএনপির সঙ্গে জোটে যাওয়ার পক্ষপাতী নন। বিকল্প হিসেবে তারা জামায়াতসহ বিএনপি–বিরোধী বৃহত্তর নির্বাচনী সমঝোতার কথাও ভাবছেন। ফলে জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে গঠিত এনসিপির মধ্যে জোট প্রসঙ্গে বিভক্তি তৈরি হয়েছে।
গত ১৩ নভেম্বর এক ছাত্র উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনে এনসিপির ৩০ জনের বেশি নেতার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন দলীয় কার্যালয়ে আরেকটি সাধারণ সভা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছয়জন নেতার সঙ্গে কথা বলে সংবাদ মাধ্যমটি জানতে পেরেছে যে দুই উপদেষ্টার পাশাপাশি এনসিপির শীর্ষ দশ নেতার অন্তত দুজন বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে আগ্রহী। তাঁদের একজন ঢাকার একটি আসনে, অন্যজন উত্তরবঙ্গের একটি আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে চান। তবে দুই ছাত্র উপদেষ্টার মধ্যে মতভেদ আছে—একজন জামায়াতের সঙ্গে কোনো সমঝোতার বিপক্ষে, আরেকজন মনে করেন রাজনৈতিক সরকারের শাসনামলে নিরাপত্তার স্বার্থে বিএনপির জোটে থাকা উত্তম হতে পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা অন্তর্বর্তী সরকারের আরও কয়েকজন উপদেষ্টাও মনে করেন এনসিপির জন্য বিএনপির সঙ্গে জোট করা রাজনৈতিকভাবে লাভজনক। তবে দলটির অভায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আক্তার হোসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন—এনসিপির দাবিগুলো পূরণ না হলে বিএনপির সঙ্গে জোটে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। যদিও উপদেষ্টার বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেননি তাঁরা, দলের সাধারণ সভার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম–অভায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব। তাঁর ভাষায়, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়নে যেসব দলের নীতি কাছাকাছি, তাদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এনসিপি সূত্র জানায়, দলটির ৫৫ সদস্যের রাজনৈতিক কাউন্সিলের ৩০–৩২ জন ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দুই উপদেষ্টার পাশাপাশি অভায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আক্তার হোসেন ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা জোট বিষয়ে মতামত দেন। তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজে আলম বিএনপির সঙ্গে জোটের পক্ষে মত দেন, আর স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সুজীব ভুইয়া সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নেন। তাঁর মতে, আগামী সংসদে অবস্থান ধরে রাখতে হলে এনসিপিকে বিএনপির জোটে যেতে হবে।
Leave a Reply