ক্রীড়া ডেস্ক
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য সেঞ্চুরিতে লড়াকু সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান তোলে টাইগাররা। ফলে নিউজিল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৬ রান।
শুরুর গল্পটা অবশ্য ছিল পুরোপুরি উল্টো। ইনিংসের শুরুতেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কিউই পেসার উইল ও’ররকির দারুণ বোলিংয়ে দ্রুতই বিদায় নেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম—দুজনই শূন্য রানে ফেরেন। কিছুটা সেট হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি সৌম্য সরকার; ১৮ রান করে ও’ররকির তৃতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। মাত্র ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৭৮ বলে ১৬০ রানের দুর্দান্ত জুটি বাংলাদেশের ইনিংসে প্রাণ ফেরায়। ধৈর্য ও দক্ষতার মিশেলে দুজনই দলকে স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে যান।
লিটন দাস ছিলেন স্বাচ্ছন্দ্যে, খেলছিলেন পরিণত ইনিংস। তবে স্পিনার জেডন লেনক্সের বলে স্টাম্প ছেড়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে থামতে হয় তাকে। ৯১ বলে ৭৬ রানের ইনিংসে তিনি মারেন ৩টি চার ও ১টি ছক্কা। এই ইনিংসের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর ওয়ানডেতে ফিফটির দেখা পান লিটন।
অন্যপ্রান্তে অনড় ছিলেন শান্ত। দারুণ নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে তুলে নেন নিজের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ১১৯ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৫ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন তিনি। আগের ম্যাচেও ফিফটি করার পর এই ম্যাচে শতক—ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সিরিজে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
শেষদিকে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত ২২ রান যোগ করেন, আর তাওহিদ হৃদয় অপরাজিত ৩৩ রানে ইনিংস শেষ করেন। তাদের ছোট ছোট অবদানেই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় লড়াকু সংগ্রহে।
শুরুর ধাক্কা সামলে শান্ত-লিটনের দৃঢ়তায় ২৬৫ রানের প্রতিযোগিতামূলক স্কোর দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ, যা সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
Leave a Reply