আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও এখনও কয়েকটি মূল ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmaeil Baghaei। তিনি বলেন, উভয় পক্ষ বেশ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হলেও অন্তত দুই থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি।
বাঘাই উল্লেখ করেন, প্রায় ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া সংঘাতের পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এক বৈঠকেই চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করা বাস্তবসম্মত ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, “কেউই এমনটা আশা করেনি।”
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সফলতা পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ওপর। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, অতিরিক্ত ও অবৈধ শর্ত থেকে বিরত থাকা এবং ইরানের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়াও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে পরিচিত এই বৈঠক পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে রবিবার পর্যন্ত চলে। দীর্ঘ প্রায় ২১ ঘণ্টার এই আলোচনায় উভয় পক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
আলোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট J. D. Vance বলেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হলেও তা চূড়ান্ত সমঝোতায় রূপ নেয়নি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে—কোন বিষয়ে তারা আপস করতে প্রস্তুত এবং কোন বিষয়ে নয়। তবে ইরানের প্রতিনিধিদল সেই শর্তগুলো গ্রহণ করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সামগ্রিকভাবে, আলোচনায় আংশিক অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে মতপার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত সমাধান এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
Leave a Reply